ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিনহুয়ার
সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার হরমুজ দ্বীপের কাছে উড়ন্ত ওই বিমানটি শনাক্ত ও অনুসরণ করা হয়। পরে একটি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিমানটির বর্তমান অবস্থা জানতে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে শনিবার, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কেন্দ্রীয় ইরানের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি ‘শত্রু’ আকাশযান—যার মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ট্যাংকার বিমান ও উন্নত যুদ্ধবিমান রয়েছে—ট্র্যাক ও প্রতিহত করেছে ইরানের বাহিনী।
সংস্থাটি দাবি করে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের আকাশসীমায় আরও দুটি যুদ্ধবিমান—একটি মার্কিন এফ-১৫ এবং একটি এফ-১৫ই—কেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ বিভিন্ন ইরানি শহরে যৌথ হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিনহুয়ার
সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার হরমুজ দ্বীপের কাছে উড়ন্ত ওই বিমানটি শনাক্ত ও অনুসরণ করা হয়। পরে একটি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিমানটির বর্তমান অবস্থা জানতে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে শনিবার, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা কেন্দ্রীয় ইরানের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি ‘শত্রু’ আকাশযান—যার মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ট্যাংকার বিমান ও উন্নত যুদ্ধবিমান রয়েছে—ট্র্যাক ও প্রতিহত করেছে ইরানের বাহিনী।
সংস্থাটি দাবি করে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের আকাশসীমায় আরও দুটি যুদ্ধবিমান—একটি মার্কিন এফ-১৫ এবং একটি এফ-১৫ই—কেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ বিভিন্ন ইরানি শহরে যৌথ হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।
আমেরিকার এ-১০ অ্যাটাক জেট ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো হরমুজ প্রণালিতে খুব সামান্য উচ্চতায় গর্জন করে উড়ে যাচ্ছিল ইরানি স্পিডবোটগুলোকে শিকার করতে। ইরানি এই স্পিডবোটগুলো বেশ দ্রুতগামী।
ইরানের দ্রুতগামী আক্রমণকারী এসব বোট এবং উপকূল ও বিভিন্ন দ্বীপে থাকা মিসাইল ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার লক্ষ্যে নেমেছে এসব ফাইটার ও হেলিকপ্টার। তাদের মূল লক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অবসান ঘটানো।
তবে সংকীর্ণ এই প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য প্রধান হুমকি এসব বোট বা মিসাইল নয়, এমন কিছু যা আমেরিকান জেটগুলো দেখতে পায় না ও সহজে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে না। আর এক হুমকি হলো—পারস্য উপসাগরের অগভীর ও ঘোলা জলে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা ইরানের একটি ছোট ‘মিজেট’ (ক্ষুদ্রাকৃতির) সাবমেরিন বহর।
ইরানের কাছে প্রায় ১০টি গাদির-ক্লাস মিজেট সাবমেরিন রয়েছে, যেগুলোর ওজন ১২০ টন এবং দৈর্ঘ্য ২৯ মিটার—অর্থাৎ সাধারণ অ্যাটাক সাবমেরিনের তুলনায় এগুলোর আকার প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ।
আমেরিকার ওহাইও-ক্লাস পারমাণবিক সাবমেরিনের তুলনায় (ওজন ১৮ হাজার ৭৫০ টন এবং দৈর্ঘ্য ১৭০ মিটার) এগুলোর আকার অত্যন্ত ছোট। ইরানি মিজেটগুলো মাত্র ৩০ মিটার গভীরতার অগভীর জলেও শনাক্তকরণ এড়িয়ে চলতে সক্ষম, যা এই প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ শিপিং চ্যানেলগুলোর গড় গভীরতা।
প্রণালির পরিবেশ—অগভীর জল এবং সেই সঙ্গে জাহাজ চলাচল ও ড্রিলিং অপারেশনের বিকট শব্দ—আমেরিকার জন্য এই মিনি-সাবমেরিনগুলোকে খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা কঠিন করে তুলবে।
গাদির-ক্লাস সাবমেরিনগুলো পাশ দিয়ে যাওয়া ট্যাংকার লক্ষ্য করে ‘হুত’ টর্পেডো ছুড়তে সক্ষম। ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সুপারক্যাভিটেটিং প্রযুক্তির কারণে এটি পানির নিচে ঘণ্টায় ২২০ মাইল বেগে চলতে পারে, যা পানির ঘর্ষণ ও বাধা কমিয়ে দেয়।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, রাতের বেলায় একটি মাত্র গাদির-ক্লাস সাবমেরিন শনাক্ত না হয়েই শিপিং চ্যানেলগুলোতে কয়েক ডজন মাইন পেতে রাখতে পারে। ইরান চার দশক ধরে পারস্য উপসাগরের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তাদের সাবমেরিন চালকদের একচেটিয়াভাবে এই জলসীমাতেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
ইরান সরকার প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশেষভাবে তৈরি এই মিনি-সাবমেরিনগুলোকে ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করছে এবং বৈশ্বিক নৌ যোগাযোগকে নিজেদের কবজায় রাখার চেষ্টা অভিযোগ রয়েছে।
ইরানের অস্ত্রাগারে গাদির-ক্লাস সাবমেরিনই একমাত্র সরঞ্জাম নয়। ইরানি ই-গাভাসি এবং আল-সাবেহাত হলো ‘সুইমার ডেলিভারি ভেহিকল’, যার মাধ্যমে কমব্যাট পাইলটরা অগভীর উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং গোপনে মাইন স্থাপনের কাজ করতে পারে। এগুলোতে ওয়ারহেড বসিয়ে ‘সুইসাইড ভেসেল’ বা আত্মঘাতী জাহাজ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফাতেহ-ক্লাস সাবমেরিনগুলো আকারে কিছুটা বড়, ওজন প্রায় ৬০০ টন। এতে উন্নত সেন্সর ও টর্পেডো রয়েছে এবং এটি উপকূলের কাছাকাছি থেকে গভীর পানিতেও কাজ করতে সক্ষম। পুরোনো মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে নাহাং মিজেট সাবমেরিন এবং তিনটি কিলো-ক্লাস ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন, যা ইরান ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়ার কাছ থেকে কিনেছিল। তারেঘ, ইউনেস এবং নূহ নামের এই কিলো সাবমেরিনগুলো আকারে বড়, তবে পারস্য উপসাগরের উত্তরের অগভীর অংশে এগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে হিমশিম খায়।
বেসাত-ক্লাস হলো ইরানের নতুন আধা-ভারী সাবমেরিন ডিজাইন, যদিও এর উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য সীমিত। সব ধরনের সাবমেরিনই টর্পেডো এবং নৌ-মাইন বহন করতে পারে। ইরানের প্রাথমিক লক্ষ্য আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া নয়, বরং গোপনে মাইন পেতে শিপিং চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া, যা পরিষ্কার করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী শত শত দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজ পরিচালনা করে, যা সংকীর্ণ জলসীমায় ‘ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের’ (swarm tactics) জন্য তৈরি। জুলফিকার-ক্লাস বোটগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং এগুলো ইরানের সবচেয়ে সক্ষম দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজ।
তবে এই বহরের বেশির ভাগই হলো ছোট সশস্ত্র স্পিডবোট, যা পারস্য উপসাগর বরাবর ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখার ছোট ছোট বন্দর এবং খাঁড়ি থেকে কাজ করতে পারে। ‘বাভার ২’ হলো একটি সংকর পদ্ধতি—এটি একটি ‘উড়ন্ত নৌকা’, যা গতি বাড়াতে এবং রাডার ফাঁকি দিতে পানির উপরিভাগের ঠিক উপর দিয়ে উড়তে পারে।
ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিমোট-কন্ট্রোলড কামিকাজে বোটও প্রদর্শন করেছে। এগুলো বিস্ফোরক ভর্তি চালকবিহীন জাহাজ, যা উপকূলীয় এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সক্রিয় করা যায়।
আমেরিকান বিমান হামলায় আইআরজিসির কিছু নৌ ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু এই বোটগুলোর জন্য খুব সামান্য লঞ্চিং পয়েন্ট প্রয়োজন এবং এগুলো সাধারণ বেসামরিক বন্দরেও লুকিয়ে রাখা যায়, ফলে এগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। ইরানের ট্রাক-মাউন্টেড বা ভ্রাম্যমাণ জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইলগুলো স্পিডবোটের চেয়েও বড় দীর্ঘমেয়াদি হুমকি, কারণ আকাশ থেকে এগুলোকে সহজে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায় না।
কাউসার ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ১২ থেকে ১৫ মাইল এবং নাসর-১ এর পাল্লা ২২ মাইল পর্যন্ত। উভয়ই উপকূলীয় জলসীমার জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। তেহরানের অস্ত্রাগারে কাদির এবং গাদির জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইলও রয়েছে যেগুলোর পাল্লা ১৮৬ মাইল পর্যন্ত। এ ছাড়া চীনা সি–৮০২ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি নূর ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ১০৬ মাইল পর্যন্ত।
এগুলোর সব কটিই প্রণালি ছাড়িয়ে ওমান উপসাগরের গভীরে থাকা জাহাজগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। আবু মাহদি ক্রুজ মিসাইলের পাল্লা ৬২১ মাইল বলে জানা গেছে, যা ইরানি ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে থাকা জাহাজের জন্যও হুমকি হতে পারে।
ইরান পারস্য উপসাগর (খালিজ-এ ফারস) এবং হরমুজ-২ নামের জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইলও তৈরি করেছে। ১৮৬ মাইল পাল্লার এই মিসাইলগুলো স্যাটেলাইট গাইডের মাধ্যমে চলন্ত জাহাজে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো ট্রাকে বহনযোগ্য, পাহাড়ের সুড়ঙ্গে লুকানো এবং সুরক্ষিত বাংকারে রাখা হয় এবং এগুলো প্রতিনিয়ত স্থানান্তর করা হয়।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত ফুটেজ অনুযায়ী, তারা সাবমেরিন থেকে শাহেদ কামিকাজে ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতাও দেখিয়েছে। যেখানে একটি চালকবিহীন সাবমেরিন থেকে ‘হাদিদ-১১০’ জেট-চালিত ড্রোন ছুড়তে দেখা যায়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্ষমতা টর্পেডো নয়, বরং মাইন।
ইরানের কাছে কয়েক দশক ধরে জমানো নৌ-মাইনের বিশাল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টাক্ট মাইন (যা স্পর্শ করলে বিস্ফোরিত হয়), ম্যাগনেটিক মাইন (যা জাহাজের চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করে), অ্যাকোস্টিক মাইন (যা ইঞ্জিনের শব্দে সক্রিয় হয়) এবং প্রেশার মাইন (যা জাহাজ যাওয়ার সময় পানির চাপের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে)।
আরও উন্নত সংস্করণগুলো বিভিন্ন ধরনের জাহাজের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। কিছু মাইন এমনভাবে প্রোগ্রাম করা থাকে যে সেগুলো ছোট মাইনসুইপার জাহাজকে ছেড়ে দিলেও বড় বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকার শনাক্ত করলেই বিস্ফোরিত হবে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইউকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সময় পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো 'ধ্বংস' বা ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে। খবর বিবিসির
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, দেশটি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে, তারা পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাবে।
এদিকে, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাতারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল সংক্রান্ত এক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছে বিবিসি।
এসব ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানি হামলার পর, যেখানে ডিমোনা এবং আরাদ শহরে ১২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার ইরান দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে, হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পারস্য উপসাগরজুড়ে ইরান ও প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি হামলার সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। প্রায় তিন সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার পরও দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলেই এতে ইঙ্গিত মিলছে। খবর স্কাই নিউজের
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গ্যাস স্থাপনায় সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আনুমানিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই স্থাপনা পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে।
এ প্রসঙ্গে তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের কূটনীতিক ইসমাইল বাঘাই বলেন, সামরিক আগ্রাসনের মুখে থাকা কোনো দেশের কাছ থেকে সংযম আশা করা যায় না। যারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাদের দিকেই সংযমের আহ্বান জানানো উচিত।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড-এ হামলা চালানোর পরই পাল্টা আঘাত হানে তেহরান।
এদিকে পরিস্থিতির তীব্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা থেকে বিরত থাকতে এবং ইরানকেও একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে বাঘায়ি বলেন, যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে বলেও খবর রয়েছে। এমন পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়বে—যার প্রভাব পড়বে তেল, গ্যাস, হিলিয়াম, প্লাস্টিক ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।
ইরানের সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দোল্লাহি। তিনি জানিয়েছেন, ইরান এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে।
রোববার (২২ মার্চ) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন এই সামরিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে, যা শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি বদলে দেবে।
আব্দোল্লাহি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘শত্রুরা’ ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এর কিছু প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে এবং সামনে আরও ‘চমক’ অপেক্ষা করছে।
উল্লেখ্য, এই কমান্ড সদর দপ্তরটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট, যা বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করে বলে তেহরানের দাবি।
এই অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে বিশ্বনেতাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর আলজাজিরার
গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরাদ শহরে হামলার স্থান থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু দেশ ইতোমধ্যে এ পথে এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এ সময় নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, ইরান বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ইরানের এমন সক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে ইউরোপের গভীর অঞ্চলেও দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানো সম্ভব।
ইরান যুদ্ধের ১০তম দিন ৯ মার্চ ভোরে বাহরাইনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ ছিল। এমনটাই উঠে এসেছে একদল একাডেমিক গবেষকের বিশ্লেষণে। বিশ্লেষণটি পর্যালোচনা করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত ৯ মার্চ উপসাগরীয় এই দেশটিতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় শিশুসহ ৩২ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। এর আগে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য ইরানি ড্রোন হামলাকে দায়ী করেছিল।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, রাজধানী মানামার উপকণ্ঠে সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল। এই এলাকাটি একটি তেল শোধনাগারের জন্য পরিচিত।
বাহরাইনের এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে ইরানি একটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছিল, যার ফলে প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্র বা ইরানি ড্রোনের সরাসরি ভূমিতে আঘাতের কারণে ঘটেনি।
তবে মাহাজ্জা এলাকায় ঘটনার সঙ্গে ইরানি ড্রোন জড়িত ছিল- এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই উপস্থাপন করেনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ইরাকের আকাশসীমায় সব ধরনের ফ্লাইট আরও ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। খালেজ টাইমসের
ইরাকি সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, চলমান নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে।
এর আগে রাজধানীর বাগদাদ আর্ন্তজাতিক এয়ারপোর্টে অবস্থিত একটি মার্কিন কূটনৈতিক ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে রাতভর অন্তত আটটি হামলার ঘটনা ঘটে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলার সংখ্যা অন্তত ছয়টি ছিল। এছাড়া পুলিশের এক সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের কাছাকাছি বাগদাদের একটি এলাকায় একটি রকেট লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি জাহাজগুলো এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে, তবে সে ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ইরানের দূত হিসেবে দায়িত্বরত মুসাভি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি ‘ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অধিকারের’ প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। তেহরানের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে চলমান ভয়াবহ জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলী মুসাভি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষায় ইরান আইএমও এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে দায়ী করেন। মুসাভির মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডই এই অঞ্চলের নৌ-চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং ইরান কেবল তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে শত শত তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ অনুমতির প্রস্তাবটি মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য অচল করতে চায় না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তবে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ এখন ইরানের এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, কারণ বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় হরমুজ প্রণালী সচল করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
তেহরান দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে জাহাজগুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এখন দেখার বিষয় হলো, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের এই শর্ত মেনে নিয়ে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পরিচালনার ঝুঁকি নেয় কি না। আপাতত এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা।
সূত্র: আল জাজিরা
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জেরে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন দূতাবাস কর্মীকে বহিষ্কার করেছে রিয়াদ প্রশাসন।
শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি বন্দর ইয়ানবুর কাছে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলা অব্যাহত থাকলে তা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝে আরও তীব্র উত্তেজনা তৈরি করবে। রিয়াদ স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল বর্তমান সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দুই দেশের ভবিষ্যতের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী, তেহরান এ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এমনকি সম্প্রতি রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করছিল। কিন্তু সেই কৌশলগত অবস্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করার অর্থ হলো রিয়াদ এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাচ্ছে না। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান ইরানকে আঞ্চলিকভাবে আরও কোণঠাসা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি আরব তাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সৌদি কূটনীতিবিদরা এখন বিশ্বজুড়ে তৎপরতা শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, তেহরান এই বহিষ্কারাদেশের প্রতিক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই কূটনৈতিক টানাপড়েন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে খুব শীঘ্রই বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই অবনতি সেই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অসংখ্য মানুষ হতাহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান সময়কে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ছোঁড়া শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আরাদ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, হামলার পর এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে মাঠে কর্মরত জরুরি ও উদ্ধারকারী বাহিনীগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
দেশটির সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দিমোনা শহরের হামলাটি ইসরায়েলের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ শহরটি দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানল, তা নিয়ে দেশটির সামরিক মহলে তোলপাড় চলছে।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে ইরানের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, ইসরায়েল সব ফ্রন্টে তাদের শত্রুদের ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
বর্তমানে পুরো ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিমোনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ইরানের এই সফল আঘাত ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক অনিয়ন্ত্রিত দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি নাশকতার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায় কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত উভয় পক্ষই যুদ্ধের ময়দানে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
দিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল সরকারের স্বচ্ছতা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিশিষ্ট শান্তিকর্মী ও রাজনীতিবিদ ইয়ারিভ ওপেনহাইমার।
রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ফুরিয়ে আসছে বলে সরকার যে দাবি করছে তা সঠিক নয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করা হচ্ছে।
ওপেনহাইমার প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হলো এবং তেহরানের কাছে আর কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে সে সম্পর্কে সরকার কেন স্পষ্ট উত্তর দিচ্ছে না। দিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলি জনসাধারণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে ওপেনহাইমারের এই বক্তব্যে।
এদিকে চতুর্থ সপ্তাহে পা রাখা এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বিমান সংস্থা প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূল্য হারিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলো অচল হয়ে পড়া এবং জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার ফলে এই খাতটি করোনা মহামারীর পর সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিমানের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক ফ্রন্টেও উত্তজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট পাওলো ভন শিরাচ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের আকাশ নিয়ন্ত্রণ করলেও ইরানি নেতৃত্বকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তার মতে, ইরানকে পরাজিত করতে হলে তাদের পক্ষ থেকে হার স্বীকারের ঘোষণা আসতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব।
অন্যদিকে, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি ‘আক্রোতিরি’ থেকে পরিচালিত অভিযানের জেরে লন্ডন ও নিকোসিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সাইপ্রাস সরকার তাদের দ্বীপে ব্রিটিশ ঘাঁটির উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করার হুমকি দেওয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উত্তেজনা প্রশমনে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
ইরান যুদ্ধের আঁচ এখন সৌদি আরবের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেও লাগতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে সৌদি আরবের দিকে ছোড়া প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রিয়াদ। এসব ড্রোন মূলত সৌদি আরবের পূর্ব প্রদেশ ও ইয়ানবু বন্দরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।
যদিও সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে, তবুও ক্রমাগত এই হামলা দেশটির অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত জ্বালানি খাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো গত একদিনে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ২১টি ড্রোন ও রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বহুমুখী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জাপানি নাগরিকদের মুক্তি ও ইইউ-এর গ্যাস সংকটের মতো খবরগুলোও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাচ্ছে। জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি জানিয়েছেন, ইরানে গত বছর থেকে আটক থাকা দুই জাপানি নাগরিকের মধ্যে একজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সদস্য দেশগুলোকে শীতকালীন গ্যাস মজুত করার তাগিদ দিয়েছে, কারণ কাতার ও ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতির ভিত্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহত করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
রোববার (২২ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ মালিকানাধীন ওই ড্রোনটি কোনো ধরনের হামলা বা সামরিক অভিযান পরিচালনার আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই সাফল্যকে তেহরানের ওপর চলমান বিমান হামলার মুখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যখন ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের ওপর হামলার নতুন ঢেউ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক তখনই এই ড্রোন ভূপাতিত করার খবরটি সামনে এল।
ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান এই ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের ১ ২৭টি উন্নতমানের ড্রোন ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বিভিন্ন মডেলের এই ড্রোনগুলো ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের সময় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং শত্রুর আকাশপথের নজরদারি ও আক্রমণ নস্যাৎ করতে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা বিশ্ববাসীকে পৌঁছে দিচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল, তারা তেহরানের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে। এই ঘোষণার পরপরই তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের বাসিন্দারা প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠার কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ এবং আগুনের আভা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের এই আক্রমণ মূলত ইরানের সমর সক্ষমতাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে তেহরানের আকাশজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি লড়াই এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ এই সশস্ত্র ড্রোনটি।
যদি সত্যিই ইসরায়েলি ও মার্কিন ড্রোনের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে তা এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এই আকাশ যুদ্ধের ফলাফল এবং পরবর্তী বড় ধরনের কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের আশঙ্কায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তেহরানের আকাশে এই জয় ইরানের মনোবলকে কিছুটা চাঙ্গা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হওয়ার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের জন্য নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে জাপান।
রোববার (২২ মার্চ) জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফুজি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোতেগি বলেন, এটি বর্তমানে একটি তাত্ত্বিক বিষয় হলেও যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং সমুদ্রপথে মাইনগুলো জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে জাপান অবশ্যই তা অপসারণে ভূমিকা রাখার কথা ভাববে। জাপানের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রুদ্ধ হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়া জাপানি জাহাজগুলোর চলাচলের জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো বিশেষ বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা টোকিও-র নেই বলে স্পষ্ট করেছেন মোতেগি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব দেশের জাহাজ যেন কোনো বাধা ছাড়াই এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারে, এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা বর্তমানে ‘অত্যন্ত জরুরি’।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার জাপানের কিয়োদো নিউজকে জানিয়েছিলেন, তিনি মোতেগির সঙ্গে জাপানি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে জাপান কেবল নিজেদের সুবিধার চেয়ে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপান তাদের প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় জাপানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা টোকিও-র জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে কেবল যুদ্ধ পরবর্তী মাইন অপসারণের মতো রক্ষণাত্মক ও সাহায্যমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জাপান বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন মিত্রদের এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে চাপ দিচ্ছে, তখন জাপানের এই কৌশলগত প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, জাপানের এই প্রস্তাব মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের জন্যই একটি ইতিবাচক সংকেত। যদি যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়, তবে সমুদ্রপথ পরিষ্কার করার এই প্রক্রিয়ায় জাপানের অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং ইরানের পাল্টা হুমকির মুখে আদৌ কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। আপাতত জাপান পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে এবং নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প সব কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসহ পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং নিকটবর্তী দামাভান্দ শহরসহ তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকা এসব বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।
ব্লগারদের আরেকটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল যখন ইরানের রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরণগুলো ঘটল। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান বিদ্যুৎকেন্দ্র (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস। এই তালিকায় আরও রয়েছে বুশেহর উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ট্রাম্পের হুমকির পরপরই দামাভান্দ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর আসায় ধারণা করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভবত ইরানের জ্বালানি গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বর্তমানে তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক এলাকায় জানমালার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দামাভান্দ এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সামরিক স্থাপনা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন সরাসরি ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদি দামাভান্দ বা এই জাতীয় বড় কেন্দ্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ে, তবে পুরো ইরানে এক নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন প্রশাসনের এই সমন্বিত পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে।
এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তেহরানের দোরগোড়ায় এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, ৪৮ ঘণ্টার এই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেল কি না।
সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি এই সামুদ্রিক পথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই হামলা শুরু করা হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি থেকে। ট্রাম্পের এই চরম বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ ও চূড়ান্ত সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরান জানিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো ধরনের আঘাত হানা হলে এর ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে বলেন যে, মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাবে। এর আগে ইরানের সদ্যপ্রয়াত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি সতর্ক করেছিলেন যে, দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে।
এদিকে পাল্টাপাল্টি এই হুমকির মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের অন্তত দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।
আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ইরানি আক্রমণের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ শুরু করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতি ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের কারণে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন কেবল ধ্বংসাত্মক সংঘাতের প্রহর গুনছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানি গ্যাস সরবরাহ আবার ইরাকে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্কাই নিউজ জানায়, ওই হামলার পর ইরান থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। হামলাটি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আবারও লক্ষ্যবস্তু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এদিকে ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটার হারে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে আকাশসীমা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইরানের আকাশে সক্রিয় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে আঘাত করে ভূপাতিত করা করেছে। খবর আলজাজিরার
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরজিসি জানায়, এটি যুদ্ধের সময় তৃতীয় এমন ঘটনা। তাদের দাবি, এই যুদ্ধবিমানটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, তাদের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় হামলার মুখে পড়েছিল, তবে বিমানটি কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি এবং নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের বিমান হামলার সময় হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদেই অভিযান শেষ করে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টিরও বেশি উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু—ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান—ভূপাতিত বা আঘাত করেছে।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে কাজ করা এক রিজার্ভ সেনাকে ইরানের কাছে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর দি ন্যাশনালের
শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং পুলিশের বিশেষ ইউনিট লাহাভ ৪৩৩ তার গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ বছর বয়সী রাজ কোহেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল নিরাপত্তা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছেন।
তাদের দাবি, জেরুজালেমে বসবাসকারী কোহেন কয়েক মাস ধরে ইরানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের নির্দেশে বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কাজ করছিলেন। নিজের দায়িত্ব পালনের সময় যে সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, সেগুলোই তিনি সরবরাহ করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তিনি জানতেন যে যোগাযোগটি ইরানের পক্ষ থেকেই হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
‘আয়রন ডোম’ স্বল্পপাল্লার রকেট প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ইসরায়েলের কাছে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিড’স স্লিং’ নামের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।
চলমান যুদ্ধে শত্রুপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে গুপ্তচর নিয়োগের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একইভাবে ইরান ও লেবাননেও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সম্প্রতি ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতের শুরুতেই সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। এছাড়া ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিবও সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। খবর স্কাই নিউজের
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, এই সপ্তাহে আইডিএফ এবং মার্কিন বাহিনী ইরানের শাসনব্যবস্থা ও এর নির্ভরশীল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যে হামলা চালাবে, তার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘোষণা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান একসঙ্গে জোরদার হলে পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, শত্রুরা ‘পরাজিত’ হচ্ছে। খবর আলজাজিরার
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, নওরোজ এমন এক বছর সূচনা করেছে, যা হবে জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অধীনে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর।
খামেনি বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তাতে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ভেবেছিল কয়েক দিনের হামলাতেই জনগণ সরকার উৎখাত করবে—এটি ছিল তাদের মারাত্মক ভুল হিসাব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে তার পিতা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বার্তায় খামেনেই আরও দাবি করেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিদের হত্যার মাধ্যমে ইরানে ভয় ও হতাশা ছড়ানোর যে পরিকল্পনা ছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। বরং শত্রুপক্ষের মধ্যেই ফাটল তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার শূন্যতা মোকাবিলায় ইরানের সংবিধান এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বড় ধাক্কার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে থাকতে পারে।
এদিকে তুরস্ক ও ওমানে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন খামেনেই। তার দাবি, এসব ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ ঘটনা, যার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের পূর্ব প্রতিবেশীদের খুব ঘনিষ্ঠ মনে করি।
এছাড়া নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পুনরায় জানিয়েছেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয়। আমাদের সমস্যা শত্রুদের হস্তক্ষেপের ফল। আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সব মতপার্থক্য দূর করতে চাই।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপনাটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, যেখানে স্যাটেলাইট ছবিতে একাধিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। খবর আলজাজিরার
শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, নাতাঞ্জে অবস্থিত শহীদ আহমাদি রোশন সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ অংশ হিসেবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিসহ (এনপিটি) বিভিন্ন নিরাপত্তা বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পারমাণবিক স্থাপনাটি এর আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রথমে এখানে বিমান হামলা চালায়, পরে যুক্তরাষ্ট্রও একই স্থাপনায় আঘাত হানে।
এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের দাবি, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে—যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রয়েছে—মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানিমূলক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের আত্মরক্ষার অনস্বীকার্য অধিকার আছে বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।।
শনিবার (২১ মার্চ) মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ প্রধান তেহরানের ওপর চলমান এই হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবৈধ হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশ্ব সংস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে এই মন্তব্য এলো। জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেছেন যে, সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর চালানো এসব হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ অসংখ্য মানুষ ‘শহীদ’ হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকশ নিরপরাধ নারী ও শিশু রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই নৃশংস হামলায় আবাসিক এলাকা, ব্যবসায়িক কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোসহ প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির ফলে পুরো ইরানজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
তেহরান ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের এই আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। ইরান এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি ও মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
বিশেষ করে যেসব আঞ্চলিক দেশ আক্রমণকারীদের সহায়তা করছে বা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে, ইরান তাদের স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হেনেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই তারা এই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং তারা কোনোভাবেই তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এই নগ্ন আঘাত মেনে নেবে না।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যেন তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের ওপর হামলার ‘লঞ্চ প্যাড’ বা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। তেহরান মনে করে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা জরুরি।
জাতিসংঘের এই সমর্থন ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা জোরালো করলেও, যুদ্ধের ময়দানে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ইরানের নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।
শনিবার (২১ মার্চ) ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক বার্তায় এই সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এই কঠিন সময়ে ইরানি জনগণকে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ক্রেমলিন আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর খাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
পুতিন এই বার্তায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনাকে একটি ‘নিষ্ঠুর’ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে তার তীব্র নিন্দা জানান। তবে মস্কোর এই মৌখিক সমর্থনের প্রকৃত গভীরতা নিয়ে বর্তমানে নানা মহলে বিতর্ক চলছে।
ইরানের কিছু সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সংকটে রাশিয়ার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত খুব সামান্যই বাস্তব সহায়তা পাওয়া গেছে। যদিও রাজনৈতিকভাবে মস্কো তেহরানের কৌশলগত অংশীদার, কিন্তু তাদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ বা একে অপরের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা নেই। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কায় ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে, সে বিষয়ে রাশিয়া বরাবরই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ক্রেমলিন ওয়াশিংটনকে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানের সঙ্গে তাদের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানানো হয়েছে।
ক্রেমলিন অবশ্য পলিটিকোর এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর রাশিয়া ওই অঞ্চলে একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হারিয়েছে, তাই কৌশলগত কারণেই তারা এখন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাশিয়া বর্তমানে ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তেলের উচ্চমূল্যের কারণে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। তবে সংঘাতের এই বিস্তার রাশিয়ার জন্য ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
তেহরানের প্রতি পুতিনের এই সংহতি বার্তার মাধ্যমে মস্কো বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও, বাস্তবে তারা ইরানকে সামরিকভাবে কতটা সুরক্ষা দেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত দুই দেশের মধ্যে এই বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব কেবল কূটনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খরগ দ্বীপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। এ সময় এমন প্রশ্নে তিনি রহস্যময় ও রসিকতাপূর্ণ আচরণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কোনো পরিকল্পনা থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে, কিন্তু আমি কেন একজন সাংবাদিকের কাছে তা প্রকাশ করব?’ এ সময় তিনি হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্নকর্তাকে নিয়ে কিছুটা মজাও করেন। তবে পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে, যা এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সরাসরি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যখন প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির কোনো প্রশ্নই আসে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় তারা এখন সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্প এক নতুন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথটি পাহারা দেওয়া এবং সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সেইসব দেশের যারা এটি ব্যবহার করে, যুক্তরাষ্ট্র একা এই দায়িত্ব নেবে না। ট্রাম্পের মতে, একবার ইরানের হুমকি নির্মূল হয়ে গেলে এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি ‘সহজ সামরিক অভিযান’ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল অনুরোধ পেলেই তাদের সহায়তা করবে।
অথচ এই প্রণালীটি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হওয়ায় এর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পড়ছে। বেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৮ ডলারে ঠেকেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস খরগ দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা দখলের জন্য শত শত মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনো পতনোন্মুখ নয়, বরং তারা অবশিষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে আরও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে স্থল সেনা মোতায়েনের চিন্তা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের দাম কমার আশায় বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বাজারের অস্থিরতা আপাতত কাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: ব্লুমবার্গ নিউজ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালায় সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার শিয়া মুসলিম। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে শনিবার (২১ মার্চ) সকালে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে উৎসবের এই দিনেও যুদ্ধের ছায়া ম্লান করতে পারেনি উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ক্ষোভ।
কারবালার ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম শেখ আহমদ আল-সাফি তাঁর খুতবায় ইরান ও লেবাননের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রাণঘাতী বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সহায়তায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, কারবালার ইমাম হোসেন এবং আবু ফজল আল-আব্বাসের পবিত্র মাজার দুটির মধ্যবর্তী প্রধান স্থান ‘বাইন আল-হারামাইন’ প্রাঙ্গণে তিল ধারণের জায়গা নেই। শিয়া মুসলমানদের কাছে অন্যতম পবিত্র এই ধর্মীয় স্থানটিতে সমবেত জনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ইরাকি ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নামাজের খুতবায় শেখ আল-সাফি বর্তমান সংঘাতকে নিরপরাধ মানুষের ওপর এক পৈশাচিক আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
কারবালার এই বিশাল জমায়েত কেবল ধর্মীয় উৎসব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন হামলায় যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে কারবালার এই খুতবা সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর মধ্যে গভীর সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের শেষে এই ধরনের হামলাকে অত্যন্ত অবমাননাকর ও অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন উপস্থিত মুসুল্লিরা।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরাক ও ইরানের সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনার মাঝেও এই বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে, ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক সংহতি এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কতটা গভীর।
কারবালার পবিত্র ভূমি থেকে দেওয়া এই নিন্দা প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ডাক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সূত্র: আল জাজিরা
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাপানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি দিতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শনিবার (২১ মার্চ) জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরাঘচি জানান, বর্তমানে চলমান নৌ-অবরোধ সাময়িকভাবে শিথিল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাপানি পক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে ইরান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে ইরানের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জাপানের একজন সরকারি কর্মকর্তা কিয়োদো নিউজকে জানিয়েছেন যে, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। তবে জাপানি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
তাঁরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে টোকিও-র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যেন কোনো অবনতি না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। এ ছাড়া জাপানি জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দিলেও তা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান করবে না বলেও তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আরাঘচির এই প্রস্তাবের আড়ালে ইরানের ‘প্রকৃত উদ্দেশ্য’ আসলে কী, তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে, তখন জাপানের মতো একটি মার্কিন মিত্র দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি তেহরানের কোনো কৌশলগত চাল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার পর পরই তেহরানের এই নতুন প্রস্তাব সামনে এলো।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, যার ওপর জাপান ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুদ্ধের ফলে এই পথটি রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এমতাবস্থায় ইরানের এই নমনীয় মনোভাব টোকিও-র জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির খবর, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের এই চতুর্থ সপ্তাহে এসে তেহরান সম্ভবত কূটনৈতিক পথে মিত্র ও শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।
সূত্র: বিবিসি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান 'গুটিয়ে আনার' কথা ভাবছেন। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট মেটাতে ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নেওয়ার কথা আমরা ভাবছি। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।' গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত যে দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই বার্তাটিকে তার এখন পর্যন্ত সবথেকে জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, 'প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন যে, এই মিশন সম্পন্ন করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে।'
তেলের দাম বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মাঝেই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব ইরানি তেল ইতিমধ্যে জাহাজে বোঝাই করা হয়েছে সেগুলোর ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি ও সরবরাহ করা যাবে।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তার দেশ শত্রুপক্ষকে 'চরম ধাক্কা' দিতে সক্ষম হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরব ও ইসরায়েলে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জবাবে শনিবার ভোরে তেহরানের 'গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু'গুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মূলত পাল্টাপাল্টি হামলার এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধ শেষ করার এই ইঙ্গিত এল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক তীব্র অর্থনৈতিক চাপ কমাতে শেষ পর্যন্ত শত্রুদেশ ইরানেরই প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা এই তেল যাতে ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো মিত্র দেশগুলো কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই ‘অপ্রীতিকর’ সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিপূর্বে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছে, রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ সরিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে ঠেকছে, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেল বাজারে আনা ছাড়া প্রশাসনের হাতে আর কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, এই তেল ব্যবহার করে দাম কমিয়ে উল্টো তেহরানের কৌশলের বিরুদ্ধেই একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দিকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। একসময় বারাক ওবামা প্রশাসনের ইরান চুক্তির কড়া সমালোচনা করা ট্রাম্প এখন নিজেই পরোক্ষভাবে ইরানকে তেল বিক্রিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই তেল শেষ পর্যন্ত চীন কিনে নিত, কিন্তু এখন মার্কিন মিত্ররা এটি কিনতে পারায় তাদের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের মাত্র দেড় দিনের চাহিদার সমান, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের তুলনায় খুবই সামান্য। ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু-এর মতে, এই তেল দ্রুত ফুরিয়ে গেলে ওয়াশিংটনকে হয়তো সাধারণভাবেই ইরানের তেলের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই মূল্যবৃদ্ধিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না এবং একে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট একটি ‘সাময়িক যন্ত্রণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বর্তমানে প্রশাসনের একটি ছোট নীতি-নির্ধারক দল এই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তারা গ্রীষ্মকালীন জ্বালানি ব্যবহারের ওপর কিছু পরিবেশগত নিয়ম শিথিল করার চিন্তাভাবনা করছে। তবে আসল সত্য হলো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে এই যন্ত্রণাদায়ক প্রভাব চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনএন
ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিয়াদ ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনীকে তাদের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ‘কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডকে আক্রমণের লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার না করার শর্ত দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। ইরানের শাহেদ ড্রোনের নাগালের বাইরে থাকা তায়েফের এই ঘাঁটিটি এখন লজিস্টিক সহায়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে লোহিত সাগরের জেদ্দা বন্দর মার্কিন বাহিনীর রসদ সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিয়াদের এই মনোভাব পরিবর্তনের মূল কারণ হলো ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও রিয়াদ শহরে চালানো সরাসরি হামলা।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি আরব এখন ইরানকে তাদের ‘জঘন্য আচরণের’ জন্য উপযুক্ত সাজা দিতে চায়। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে যে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছেন যে, তার দেশ অন্তত নয় মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তবে এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এখনো দ্বিধাবিভক্তি ও শঙ্কা কাজ করছে। কাতার এবং ওমানের মতো দেশগুলো এখনো উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিচ্ছে। কাতার ইতিমধ্যে ইরানের হামলায় তাদের রাস লাফান রিফাইনারিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে, যা মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি আমেরিকার যুদ্ধ নয় এবং ইসরায়েল মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে এই অবৈধ যুদ্ধে টেনে এনেছে।
অন্যদিকে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রিয়াদ প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হাইকেল মনে করেন, সৌদি আরব ও আমিরাত এখন বুঝতে পেরেছে যে ইরানের এই কঠোর শাসনের সঙ্গে সহাবস্থান করা সম্ভব নয়, যারা যেকোনো মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে পুরো অঞ্চলকে জিম্মি করতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইসরায়েলের ভূমিকা এবং জনমতের চাপ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কুয়েত ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ বদর আল-সাইফ সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই যুদ্ধে টেনে আনতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই।
এ ছাড়া ইরানের সামরিক সক্ষমতাও একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তেহরান ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তারা গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেওয়া সৌদি আরবের জন্য ‘প্যান্ডোরাস বক্স’ বা মহাবিপদ ডেকে আনার মতো হতে পারে।
যুদ্ধের এই চতুর্থ সপ্তাহে এসে সৌদি আরব এবং আমিরাত এখন হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো অভিযানে যোগ দেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে তারা মার্কিন অপারেশনে অংশ নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরব সরাসরি ইরানে আক্রমণ না করে ‘লেথাল ডিফেন্সিভ মেজারস’ বা প্রাণঘাতী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানকে মোকাবিলা করতে চায়। তবে যদি মার্কিন বিমান বাহিনী ধাহরান ঘাঁটি থেকে সরাসরি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে তা যুদ্ধের সমীকরণকে আমূল বদলে দেবে। আপাতত উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ইরানের ওপর কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের এক কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
