অভিনয়ে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন লাক্স তারকা সুমাইয়া আজগার রাহা। শুধু অভিনয় নয়, মডেলিংয়েও তার পারফর্মেন্স সবার নজর কেড়েছে। তাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
মিডিয়ার প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। তখনই এই আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে না পারলেও নিজেকে সামলে রেখেছেন দীর্ঘ সময়। আর সুযোগের প্রহর গুনেছেন মনের লালিত স্বপ্নপূরণে সদাহাস্যোজ্জ্বল এই তরুণী। তাই ২০০৭ সালে প্রতিভাময়ীদের তারকা হওয়ার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে রাখি শত শত তরুণীকে পেছনে ফেলে থার্ড রানারআপ নির্বাচিত হন। তার ভাষ্যে, 'লাক্সের অভিজ্ঞতা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হলো লাক্স। ওখানে গিয়েই আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি। বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল অনেক শেখার। আমার মনে হয়, লাক্স থেকে বের হয়ে কেউ এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না।
সত্যি বলতে কি, লাক্সের প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাকে মিডিয়ার কাজ করতে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি।' লাক্স তারকার তকমা নিজের নামের সাথে যুক্ত হওয়ার পর তিনি নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছেন আপন গতিতে। তার উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছে—হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় 'জল তরঙ্গ', সালাউদ্দিন লাভলুর 'স্বপ্নবাজার', মাসুনের 'পুতুল খেলা' ও 'পাটিগণিত', রেদওয়ান রনির 'উচ্চতর শারীরিক বিজ্ঞান' ও 'লাকি থারটিন', রিজিয়া মাসুদের 'দিন বদলের পালা', শরাফ আহমেদ জীবনের 'কামিং সুন' এবং এক খণ্ডের নাটক 'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি', 'জিম্মি', 'যত চিনি তত মিষ্টি', 'কাজী অফিস', 'ফোরটি টু মিনিটস', 'মেঘ ডেকেছে বেলায় বেলায়', 'টাইম বোম', 'এই সময় সেই সব মানুষেরা' প্রভৃতি।
বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে রাহা অভিনীত তিনটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—আরটিভিতে শেখ সেলিমের পরিচালনায় 'মাকড়সা', মাছরাঙা টিভিতে 'ইউনিভার্সিটি' এবং 'রাইট অর রঙ'। এখন তার ব্যস্ততা 'দিনবদল' নামের ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে। সামনে আরও বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু করবেন বলে জানালেন রাহা। নিজের সফলতা সম্পর্কে রাহা বলেন, 'আমার আজকের সাফল্যের পেছনে আসলে কাজ করেছে সময়ানুবর্তিতা। আজকাল আমাদের শিল্পীদের কেউ কেউ কমিটমেন্ট রেখে কাজ করেন, আবার অনেকে তা করেন না। দেখা গেল, কেউ একটি কাজের সাথে ইনভলব হওয়ার পর যখন এর চেয়ে ভালো আরেকটি কজের অফার পান, তখন আবার একই সঙ্গে সেই কাজটি গ্রহণ করেন। আমি কখনও এমনটি করি না। আমি বরাবরই আমার কাজের প্রতি কমিটেড। সব সময় সততার সাথে নিজের কাজটি শেষ করার চেষ্টা করেছি। মূলত এগুলোই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তবে এ কথা সত্যি যে, আমরা যারা নিয়মিত কাজ করি, সব সময় আমাদের পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন নাটক করা হয়ে ওঠে না। তবে, বেশিরভাগ সময়ই আমরা কোয়ালিটি ধরে রাখার চেষ্টা করি।' একজন শিল্পী হিসেবে আপনি সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ। তো এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সমাজের মানুষের জন্য কী করেন? জবাবে তিনি বলেন, 'আসলে শিল্পী হিসেবে টিভিতে কাজের মাধ্যমে সমাজ বদলানোর সময়টা বোধ হয় এখন আর নেই। হুমায়ুন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা ও আফজাল হোসেনরা যখন কাজ করতেন, তখন তাদের কাজের মধ্যে সেই দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো ফুটে উঠত। এখন আমাদের বেলায় তা খুব একটা চোখে পড়ে না। তাদের মতো শিল্পীরা অনেক হাইলি এডুকেটেড ছিলেন, ফলে তারা থিয়েটারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতেন। দেশ ও দেশের মানুষের নানা কল্যাণকর বিষয় তারা তাদের কাজের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। শিল্পের সাধনা তাদের মধ্যে ছিল। এখন আমরা কাজ করি ফোকাস হওয়ার জন্য। আমরা আসলে এখন স্টার হওয়ার জন্যই ব্যস্ত থাকি।' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে রাহা বলেন, 'অবশ্যই ইচ্ছা আছে। আর প্রায়ই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অফার আসে। তবে ব্যাটে-বলে মিলছে না। আগামীতে ভালো গল্প, ভালো পরিচালক পেলে চলচ্চিত্রে কাজ করতে আমার কোনো সমস্যা নেই।'