গতকাল বুধবার বিকালে রাজশাহীর হেতেম খাঁ এবং মেডিক্যাল বন্ধগেট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী কমিশনার (এসি) সোহেল আহমেদসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত এসিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াত-শিবির নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে মিছিলকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টিরমত ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পিছু হটে যায়। পুলিশ তিনজনকে আটক করে।
সংঘর্ষের পর হেতেম খাঁ এলাকা থেকে পালিয়ে যাবার সময় মেডিক্যাল বন্ধগেট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের আবারো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে তারা পালিয়ে যায়। সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থকরা ঘোষপাড়া মোড়ে শিবির নিয়ন্ত্রিত রেটিনা কোচিং সেন্টারে আগুন ধরিয়ে দিলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তা নিভিয়ে ফেলে। মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক ড. এম আবুল হাশেম ও সেক্রেটারি ডা. মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ ও র্যাবের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও গুলিবর্ষণে ৩ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে। পরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে 'রেটিনা ভবনে' আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। অন্যদিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন এসিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী কমিশনার সোহেল আহমেদ বাম উরুতে এবং তার বডিগার্ড পুলিশ কনস্টেবল আনিস ডান উরুতে বন্দুকের ছররা গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন। এসি সোহেল আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সম্ভবত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সামনে সদর হাসপাতালের জানালা কিংবা ছাদ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ হলে গুলি উভয়ের উরু ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। উভয়ে আশঙ্কামুক্ত।
গোদাগাড়ীতে ১৪৪ ধারা অব্যাহত
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এখনো ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে মহিশালবাড়ী এলাকায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার উদ্যোগ নিলে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের বাধার কারণে বিক্ষোভ মিছিল করতে না পারলেও বিকালে মহিশালবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও হাটপাড়া জামে মসজিদে জামায়াত-শিবিরের দুইকর্মী নিহত হওয়ায় দোয়া মাহফিল করে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াত নেতারা জানান, রবিবারের ঘটনায় মোজাহিদ ও রফিকুল নামের দুই জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল করার উদ্যোগ নেয়া হলেও ১৪৪ ধারা জারি থাকার কারণে কর্মসূচি বাতিল করে। গত বৃহস্পতিবার ও রবিবার জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ-বিজিবি সংঘর্ষে পুলিশবাদী তিনটি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি বাদী হয়ে সাড়ে ৭ হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে। পুলিশের মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী, গড়েরমাঠ, সিএন্ডবি, আঁচুয়া, মাদারপুর, বারুইপাড়া, রামনগর, সুলতানগঞ্জ এলাকায় রাতের বেলায় অধিকাংশ পুরুষ বাড়িতে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন। আসামিরা আত্মগোপন করায় আটক করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম তুহিনুর আলম বলেন, গোদাগাড়ীর পরিস্থিতি পুরোপুরিভাবে স্বাভাবিক হলেই ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে। গতকাল সকাল থেকে গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছিল।