হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয়, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবিরের হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে নরসিংদীতে গতকাল বুধবার হাজার হাজার হিন্দু ধর্মালম্বী শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ অহিভূষণ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত কুমার সাহা, মহিলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইতি রানী পাল, শহর কমিটির সভাপতি সুব্রত দাস, উপজেলা কমিটির সভাপতি নারায়ণচন্দ্র সাহা। বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে শ্লোগান দেন "হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই একসাথে বাঁচতে চাই"।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নরসিংদী জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মিলিত হন। এ সময় হিন্দু ধর্মালম্বীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তৃতা করেন নরসিংদীর পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল, নরসিংদী জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভুঁইয়া প্রমুখ।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকালে বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট সীতাংশু বিকাশ আচার্য, পৌর মেয়র প্রশান্ত রায়, কেশব সরকার, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল দাস, সম্পাদক মঙ্গল সাহা, নেত্রকোনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু। বক্তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেন এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সারাদেশে বসতবাড়ি, মন্দিরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে খাগড়াছড়ির সকল দেবালয় মন্দিরের বাত্সরিক দোল মহোত্সব বর্জনের ঘোষণা এবং খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় । বুধবার সকালে শহরের শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সনাতন সমাজকল্যাণ পরিষদ, সনাতন ছাত্র ও যুব পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।
রাবি সংবাদদাতা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুট-পাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মর্ত্তুজা আলী, যন্ত্রকৌশল বিভাগের নীরেন্দ্রনাথ মুস্তাফী, অধ্যাপক অমিত রায়, পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর তরুন কুমার পাল, আব্দুল আলীম প্রমুখ। বক্তরা ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল বিকেলে টাউন হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন অহীন্দ্র দত্ত, নলীনি কান্তি রায় নিরু, ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন প্রমুখ। বক্তারা হামলাকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনাসহ সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকালে শহরের মিশন মোড়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বর্মণ, সদর উপজেলা সভাপতি এডভোকেট চিত্ত রঞ্জন রায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সফুরা বেগম রুমী, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াসমিন।
দাউদকান্দি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ
দাউদকান্দি সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার দাউদকান্দি উপজেলার চাপাতলী গ্রামে দুর্বৃত্তরা একটি সার্বজনীন কালি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিমা ভাঙচুর করে।
মন্দিরের সেবায়েত স্বপন কুমার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা জানান রাত ৩টার পর বা ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুরাদনগর সার্কেলের এ.এস.পি নজরুল ইসলাম, দাউদকান্দি ইউএনও খন্দকার জাকির হোসেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।