পরমাণু পরীক্ষার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের 'মতৈক্য'
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া এবং সাম্প্রতিক পরমাণু পরীক্ষার জন্য জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ১৯৫৩ সালে সই করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ১৯৫৩ সালের ওই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যদিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার তিন বছরের সংঘাতের অবসান ঘটেছিল।
গত কয়েকদিন যাবত্ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার দু'মাসব্যাপী বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু হলে উত্তর কোরিয়া ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে বলে মঙ্গলবার জানায়। উত্তর কোরিয়ার পিপলস আর্মি সুপ্রিম কমান্ড এক বিবৃতিতে এ হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেসিএনএ বার্তা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক মহড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ধ্বংস ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় উত্তর কোরিয়া। প্রসঙ্গত, ১৯৫০-৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছিল কোরীয় যুদ্ধ। কিন্তু দুই কোরিয়ার মধ্যে সেই সময় কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় তখন থেকেই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়া তৃতীয়বারের মতো পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালানোর পর নতুন করে আরো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় পিয়ংইয়ং-এর ওপর। এর জবাবে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির প্রতিবাদে আরো পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াসহ দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দেয়। এদিকে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে 'মতৈক্যে' পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের কূটনীতিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। কূটনীতিকরা জানান, গত সোমবার রাতে দু'দেশ এ ব্যাপারে 'মতৈক্যে' পৌঁছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দু'দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করবে। তবে দু'দেশ ঠিক কোন কোন ব্যাপারে 'মতৈক্যে' পৌঁছেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
একজন কূটনীতিক জানান, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে 'গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা' হয়েছে। এই দু'দেশের একটি খসড়া প্রস্তাব 'শিগগিরই' নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। তবে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নর পরিষদের বৈঠকে চীন কোরীয় উপদ্বীপে বি-পারমাণবিকীকরণের জন্য ছয় জাতির আলোচনার আহবান জানিয়েছে। আইএইএ-তে চীনের প্রতিনিধি বলেছে, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা আর চাপ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যুর মৌলিক কোনো সমাধান হবে না।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয়বারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এরপর দেশটির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ নানাভাবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উত্তর কোরিয়া ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।