ঢাকা, সোমবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২ মাঘ ১৪১৯, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ আগামীকালের এসএসসি পরীক্ষা শুক্রবার | সংযুক্ত আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ বাংলাদেশি নিহত | আরব আমিরাতে আমিরাতে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিচ্ছে ২২ হাজার বাংলাদেশি | নিজস্ব অর্থায়নে শিগগিরই পদ্মার নির্মাণ কাজ শুরু: প্রধানমন্ত্রী | 'সৈয়দ আশরাফের অবস্থাও বিএনপি মহাসচিবের মতো হতে পারে' | বিপিএল: রংপুরের বিপক্ষে রাজশাহীর জয় | দ্রুত কাজ শুরু করতে বিশ্বব্যাংকে না করে দেই: অর্থমন্ত্রী | কাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, ফাঁসির রায় হলে লাগাতার | জামায়াত জঙ্গি সংগঠন: সুরঞ্জিত | মির্জা ফখরুলের কারামুক্তিতে বাধা নেই | কাদের মোল্লার রায় কাল
সরকারের ডিজিটাল পদক্ষেপ : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
সুলতান মাহমুদ রানা
বাংলাদেশে ডিজিটালকরণ মহাজোট সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে এবং পরে বাংলাদেশকে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই সরকার এক্সেস টু ইনফরমেইশন (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রথম ধাপ শেষ করে দ্বিতীয় ধাপের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ এখন ডিজিটালের অনেক স্বাক্ষর বহন করছে। বর্তমানে জনগণ পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিল্প ও বাণিজ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, নাগরিক সেবা, পর্যটন, কৃষি-অকৃষি উদ্যোগ প্রভৃতিসহ নানা বিষয়ে তথ্য সেবা পাচ্ছে। সরকারি সেবা জনগণের সহজলভ্য করার জন্য বেশিরভাগ অফিসই অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তা কার্যকর করতে সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও জনগণ ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করছে। ইন্টারনেটে আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্যও কর্মসন্ধান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ হয়েছে।

বিভিন্ন সেক্টরের ডিজিটালকরণের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটালকরণের গুরুত্ব অনেক বেশি। অন্যান্য সেক্টরের মতো সরকার শিক্ষাকে ডিজিটালকরণেও কাজ করছে। তবে শিক্ষা ক্ষেত্রকে ডিজিটালকরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কতটুকু প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে দু'একটি কথা বলতে চাই। শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটালরূপের বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পাঠে আগ্রহী করে তোলাও জরুরি। বাংলাদেশে শিক্ষা কাঠামোর প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পর্যায়েই ডিজিটাল পাঠ কিংবা ডিজিটাল পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে ইতিমধ্যেই সরকারের উদ্যোগের মধ্যে প্রথম শ্রেণী থেকে নবম-দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবই ডিজিটালকরণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শিক্ষকদের তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট প্রভৃতি। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শিক্ষাকে যেকোনো জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। বাস্তবিক অর্থেও তাই। শিক্ষা কাঠামোকে ডিজিটাল করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ডিজিটাল ই-বুক, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রেজেন্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা যেতে পারে। সরকারি উদ্যোগে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এ ধরনের প্রোগ্রাম তৈরির অনুপ্রেরণা ও উত্সাহ প্রদান করতে হবে। গত ১৬ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে বর্তমান নিবন্ধকারের লেখা 'ডিজিটাল প্রকাশনা : সমস্যা ও বাস্তবতা' শিরোনামে ছাপা হওয়ার পর পরিচিত অনেকেই ফোন করে এবং পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই ই-মেইল পাঠিয়ে এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব আগ্রহ এবং উত্সাহের প্রেক্ষিতেই আমার নিজের আগ্রহটাও কিছুটা হলেও দৃঢ় হয়েছে। আর এই দৃঢ়তা সৃষ্টির ধারাবাহিকতাতেই আজকের এই লেখা। আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের একটি বিরাট অংশ যারা পাঠ্য বই বলতে কাগজে ছাপা বই ছাড়া কিছু বুঝেন না। অবশ্য বুঝার কোনো উপায়ও নেই কারণ বর্তমানে বাংলাদেশে প্রিন্ট প্রকাশনা ছাড়া আর কোনো ইলেকট্রনিক প্রকাশনার বাজার আমাদের চোখে পড়ে না। লেখক তাদের বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রিন্ট প্রকাশনাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও প্রিন্ট প্রকাশনার বাইরেও কোনো বাংলা বই অনলাইনে পাঠ করার সুযোগ পায় না। বিদেশি অনেক প্রকাশনা আছে যেগুলো অনলাইন পাঠের উপযোগী। বাংলাদেশে আমার জানা মতে, দু'একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনলাইন পাঠ উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ই-প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান DiGibook Publications এর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে ।

প্রাতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ই-বুক ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট সংবলিত সহায়ক ই-বুকও প্রকাশ করেছে, যা অনায়াসে একজন শিক্ষার্থীর জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমান সময়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সেমিনার লাইব্রেরিগুলোতে আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বই কিনতে দেখি। কারণ বছর না যেতেই পাঠকের চাহিদা মোতাবেক নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হয় যা নতুন করে বই প্রকাশ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। আবার এ সকল লাইব্রেরিতে নতুন করে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বই কিনতে হয়। প্রকাশক শ্রেণী এ সুযোগে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সরকার বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এই খরচ নিছক অপচয় ছাড়া কিছু নয়। ই-বুকের মাধ্যমে এ খরচ নিমিষেই কোটি টাকা থেকে হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশে ই-বুকের মডেল প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- রিডিং এক্সেস- যার মাধ্যমে একটি ই-বুক সারা বিশ্বে কোটি পাঠক পড়তে পারে। এর লাইব্রেরি এক্সেস- মডেউলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহের প্রতিবছর বই ক্রয়ের খরচ সাশ্রয় হতে পারে এবং পাঠকশ্রেণীও ই-বুকগুলো পাঠ করে অনায়াসে আনন্দের সাথে প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে। এমনকি ই-স্কুলিং মডেউলের মাধ্যমে ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত যেকোনো শিক্ষা বিষয়ক সমস্যার সমাধান সম্ভব। সব মিলিয়ে ই-রিডিং, ই-লাইব্রেরি, ই-স্কুলিং-এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। কাজেই আমি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের শিক্ষা কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল পাঠ ও পাঠ্য আবশ্যক বিষয় হিসেবে থাকা দরকার। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনে সরকারি উদ্যোগের এখনই উপযুক্ত সময়। শিক্ষা বছরের শুরুতে সকল শ্রেণীতে ব্যবহারিক কম্পিউটার শিক্ষার ওপর একটি ক্লাস বাধ্যতামূলক করে ডিজিটাল সচেতনতা এবং সরকার কর্তৃক ডিজিটালাইজ্ড ই-পাঠ্য বইসমূহের এক্সেস প্রদানের মাধ্যমে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করা উচিত। তাহলেই বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে সহজেই ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর সহজ হবে।

++লেখক:শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

E-mail: sultanmahmud.rana@gmail.com
( লেখাটি পড়া হয়েছে ৩২৬৬২ বার )
সর্বাধিক পঠিত
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ব্যাংক ঋণের সুদ হার আরো কমানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
মতামত দিনফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৫
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
বছর : মাস :
সম্পাদক: আনোয়ার হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে আনোয়ার হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। e-mail: ittefaq@bangla.net
Copyright The Daily Ittefaq © 2013 Developed By : orangebd.com.