জুলাই ০৪, ২০১০, রবিবার : ২০ আষাঢ়, ১৪১৭
আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০

আর্জেন্টিনার বিদায় সেমিতে জার্মানি

০০ মোতাহের হোসেন মাসুম

বাংলাদেশের ফুটবলামোদীদের হতাশ করে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পর দুইবারের শিরোপা জয়ী আর্জেন্টিনাও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল। নিজের শততম ম্যাচে ক্লোজার দুটি এবং থমাস মুলার ও আর্নে ফ্রেডরিখের একটি করে দেয়া গোলে জার্মানি গত বিশ্বকাপের মতোই এবারো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করে দিল আর্জেন্টিনাকে। ফলে জার্মানি ৪-০ গোলে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা আর্জেন্টিনাকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে উঠলেও আফ্রিকার প্রথম আসরটি অনেকটাই নিপ্রভ হয়ে গেল দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দুটি দলের অনুপস্থিতিতে। দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে প্রায় একক নৈপুণ্যে জার্মানদের হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে এদিনও তার স্বপ্ন ছিল জার্মানদের বিরুদ্ধে আরেক দফা বিজয় অর্জন এবং গতবারের আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে একই প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার শোধ নেয়া। কিন্তু বিধি বাম। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের গ্রীন পয়েন্ট স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবার এশিয়ার সেরা রেফারি উজবেকিস্তানের রাভশান ইরমাটভের বাঁশি বাজতে না বাজতেই পিছিয়ে পড়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার দল।

থমাস মুলার তৃতীয় মিনিটেই বল পাঠান আর্জেন্টিনার জালে। ওই এক গোলেই কোনঠাসা হয়ে পড়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। যদিও বিরতি সময় পর্যন্ত জার্মানি কেবল ১-০ গোলেই এগিয়ে ছিল। এরপর একে একে গোলগুলো করেন ক্লোজা ২টি (৬৮, ৮৯) ও ফ্রেডরিখ (৭৪)। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এখন স্পেন ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার বিজয়ীর বিরুদ্ধে ৭ জুলাই ডারবানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে। এর আগে ৬ জুন উরুগুয়ে ও নেদারল্যান্ড খেলবে প্রথম সেমিফাইনালটিতে।

আর্জেন্টিনা ও জার্মানির মধ্যকার খেলাটিকে বিশেস্নষকরা ফাইনালের আগে ফাইনাল বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি। খেলাটি মাঠে গড়ানোর আগে উভয় দল কথার লড়াই চালালেও মাঠের খেলায় বয়সে তরুণ হয়েও লড়াকু জার্মানরাই শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়। প্রথমার্ধে জার্মানদের সাথে সমানে পালস্না দিতে না পারলেও বিরতির পর পাল্টা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল মেসি বাহিনী। বল নিয়ে অনেকবার আক্রমণ চালালেও জার্মান রক্ষণভাগের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি গঞ্জালো হিগুয়েইন, কার্লোস তেভেজ ও মেসিরা। কিন্তু ৬৮ মিনিটে ক্লোজার গোলের পর ক্রমশ খেই হারাতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকানরা। এরপর জার্মানরা হতোদ্যম হয়ে পড়া বিপক্ষকে আরো দুটি গোলের ভার চাপিয়ে দেয়।

চলতি বছরের শুরুতে জার্মানিতে গিয়ে এক প্রীতি ম্যাচ শেষে ২০ বছর বয়সী মুলারকে বলবয় মনে করে অবজ্ঞা দেখিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। খেলাটির আগে তাই ক্ষুব্ধ মুলার শোধ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। গোলের সূচনাও করেন তিনি। তৃতীয় মিনিটে বাম দিক থেকে সোয়াইস্টেইগারের নেয়া ফ্রি কিকে নিজের মার্কারকে চোখের পলকে ফাঁকি দিয়ে হেডে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক রোমেরোকে পরাস্ত করেন। আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ তৎপর হলে হয়তো গোলটি এড়ানো যেত। ওটামেন্ডি জার্মান স্ট্রাইকার পোডোলোস্কিকে ফাউল করায় বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিকটি পেয়েছিল জার্মানরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে মুলারের এটি চতুর্থ গোল। ২০ বছর বয়সী এই উইঙ্গার নিজে গোল করা ছাড়াও ২৪ মিনিটের সময় মিরোসস্নাভ ক্লোজাকেও সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু জার্মানির হয়ে নিজের শততম ম্যাচে ক্লোজা মাত্র ১২ মিটার দূর থেকে জোরালো শট নিলেও তা বারের উপর দিয়ে চলে যায়। তারপরও শুরুটা যদি হয় মুলারের তবে শেষটা ক্লোজার। দুবার আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান ক্লোজা। লুকাস পোডোলোস্কির বানানো বলে স্রেফ টোকা মেরে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে গোলের সূচনা করেন। এরপর মেসুট ওজিলের ক্রসে ভলি হাকিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তার আগে বাস্টিয়ান সোয়াইনস্টেইগারের কাছ থেকে বল পেয়ে একেবারে কাছে থেকে গোল করেন ফ্রেডরিখ।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গেল মৌসুমে ভাল না করলেও বিশ্বকাপে এসে জ্বলে উঠেন ক্লোজ। এদিন দুই গোল দিয়ে এবারের আসরে যেমন শীর্ষ স্ট্রাইকারদের তালিকায় উঠে আসেন তেমনি বিশ্বকাপের সবগুলো আসর মিলিয়ে পান ১৪তম গোলের দেখা। এ গোলের সুবাদে এখন তিনি বিশ্বকাপের গোলদাতাদের সর্বকালের তালিকায় ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফতেকে (১৩) ছাড়িয়ে গিয়ে স্বদেশী গার্ড মুলারের সমকক্ষ (১৪) হলেন। এখন তার সামনে আছেন কেবল ব্রাজিলের রোনাল্ডো (১৫) যিনি গত বিশ্বকাপে রেকর্ডটি হাকান। মাত্র তিন খেলায় চার গোল দেখায় এখন তার সামনে রোনাল্ডোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মুলার এদিন নিঃস্বার্থ খেলেন। হলুদ কার্ড পাওয়ার কারণে সেমিফাইনালে দেখা যাবে না বায়ার্ন মিউনিখের এ ফরোয়ার্ডটিকে।

আর্জেন্টিনা গতকাল প্রথম ২৮ মিনিট গোলে কোন শটই নিতে পারেনি। এরপর ৩৬ মিনিটে গঞ্জালো হিগুয়েইন জালের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। অথচ ম্যারাডোনা এদিন দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা দলটিকে অপরিবর্তিত রেখে মাঠে নামান। ঠান্ডা লাগার কারণে মেসি বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেননি। সঙ্গত কারণেই তার এ ম্যাচে খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু সকল সংশয় ঝেড়ে তিনি মাঠে নামলেও জার্মান রক্ষণভাগ তাকে কড়া পাহারায় রাখে।

এ কারণে প্রথমার্ধে বিশ্বের বর্ষসেরা খেলোয়াড়টিকে মাঠে আলাদা করে ঠাহর করা যায়নি। কেবল ২২ মিনিটের সময় কার্লোস তেভেজকে বাড়ানো একটি বিপজ্জনক পাস ছাড়া। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোন গোল ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসা মেসিকে। বিশেস্নষকরা মনে করছেন জার্মানিকে মোকাবিলার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ সেভাবে পরীক্ষায় পড়েনি। তাই দলটির রক্ষণভাগের দুর্বলতাও বোঝা যায়নি কালকের আগ পর্যন্ত। কিন্তু কাল জার্মানরা এই রক্ষণভাগের ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দেয়।

জার্মান চ্যাঞ্চেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এদিন মাঠে থেকে দলের জয় উপভোগ করেন। মাঠে ছিলেন মাইকেল বালাকও। বিশ্বকাপ পূর্ব ইনজুরিতে না পড়লে যাকে এদিন মাঠে অধিনায়কত্ব করতে দেখা যেত।

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিরোধী দল মাঠে :প্রধানমন্ত্রী

০০ বাসস ও বিডিনিউজ

সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করার পদক্ষেপ নিতেই বিরোধী দল অস্থির হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় বিরোধী দল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বাংলার মাটিতে বিচার হোক- এই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এজন্য বিরোধী দল অস্থির। বিরোধী দল এখন যুদ্ধাপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যতই তারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলুক, এখন তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, দুনর্ীতিবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং সেনানিবাসের বাড়ি রক্ষা করাই বিএনপি চেয়ারপারসনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবারও বিরোধী দলকে সংসদে এসে কথা বলার আহবান জানান।

বিএনপি'র হরতালের কর্মসূচিতে মির্জা আব্বাসের বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা প্রসেঙ্গ শেখ হাসিনা বলেন, 'বাড়িতে হামলা হয়েছে। কিন্তু, আমি বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখলাম শো-কেসে জিনিসপত্র ঠিক মতোই সাজানো আছে। হামলা হলে শো-কেসে জিনিসপত্র কি করে সুন্দরভাবে সাজানো থাকে'। গতকাল স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মোলস্না আবু কাওছারের সভাপতিত্বে সংগঠনের বর্ধিত সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ। ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষের লাশ ফেলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। দুনর্ীতিবাজ, যুদ্ধাপরাধী এবং ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি রক্ষাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উলেস্নখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা কারও কাম্য হতে পারে না। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সংসদে এসে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য বিরোধীদল বিএনপি'র প্রতি আহবান জানান।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিরোধী দল হরতাল ডেকে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে ইসু্য তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আগুনে পুড়িয়ে ফারুককে হত্যার কথা উলেস্নখ করে বলেন, আমি তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। ফারুক আমাকে বলেছে, 'আগুন দেয়ার পর আমি গাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। তারপরও তারা আমাকে রেহাই দেয়নি। আমার গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ফারুকের মায়ের কোল খালি করে বেগম খালেদা জিয়ার কি লাভ হলো। এ থেকে তিনি কি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চান। মানুষ কিভাবে আরেকজন মানুষকে পোড়াতে পারে? তিনি হরতালকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর এবং অর্থোপেডিক বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে তালা লাগিয়ে দেয়ার ঘটনার সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে সরকারের দেয়া গুলশানের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের আবাসন সমস্যা রয়েছে, সেখানে তিনি কেন ঢাকা সেনানিবাসের ১৮০ কাঠা সম্পত্তি দখল করে রাখবেন। সরকারের দেয়া গুলশানের বাড়িটাও ছোট নয়। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়ি একজন মানুষ বসবাস করার জন্য কি যথেষ্ট নয়। তিনি আর কতো চান। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলের হাতে হরতাল দেয়ার মতো ইসু্য নেই। তারা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে ইসু্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা তো বিরোধী দলের জয়কে ছিনিয়ে নিতে চাইনি। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফলকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল তারা পাল্টে দিতে চেয়েছিল। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছিলেন। আর বেগম খালেদা জিয়া তাদেরকে নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। তাই তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এজন্য বিরোধীদল অস্থির হয়ে উঠেছে। এখন তারা যুদ্ধাপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মুখে যত মুক্তিযুদ্ধের কথা বলুক না কেন, তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অগ্রণী ভূমিকার কথা উলেস্নখ করে বলেন, দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নেও তাদের অবদান রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার পর তাদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। গোলাম আযমসহ বেশ কয়েকজনের নাগরিকত্ব বাতিলসহ বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১১ হাজার স্বাধীনতা বিরোধীকে বন্দি করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন।

পঞ্চম সংশোধনী এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রকাশের ব্যাপারে হাইকোর্টের রায়ের কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না। তিনি বলেন, একটি প্রজন্ম আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানতে পারেনি। নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি একে দেশের জন্য শুভ লক্ষণ বলে উলেস্নখ করেন।

তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুনর্ীতির কথা উলেস্নখ করে বলেন, বিভিন্ন আলোচনার টেবিলে আমি যখন গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের কথা বলেছি তখন বিএনপি নেত্রী দুনর্ীতির মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, 'নীতি, আদর্শ এবং মনের জোর না থাকলে সাহস করে সত্য কথা বলা যায় না। আমার মধ্যে সব সময় বিশ্বাস ছিল আমি কোন অন্যায় করিনি। অবৈধ পথে অর্থ সম্পদ অর্জন করিনি।'

শেখ হাসিনা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, '১৪ জন সাংবাদিকসহ একুশ হাজার রাজনৈতিক কমর্ীকে তারা হত্যা করেছিল। তাদের হাত থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী কেউই রেহাই পায়নি। অথচ বিগত নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর আমরা কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিনি। এমনকি বিজয় মিছিলও হতে দেইনি।' তিনি ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথা উলেস্নখ করে বলেন, এই হামলার সাথে বিএনপি'র একজন মন্ত্রী জড়িত। আর এই হামলার কথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানেন না তা হতে পারে না। তাকে এ হামলার জবাব দিতেই হবে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কমর্ীদের সব সময় জনগণের পাশে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'আপনারা এমন কোন আচরণ করবেন না যাতে জনগণ কষ্ট পায়। নিজের জন্য নয়, যারা দেশ ও জাতির জন্য রাজনীতি করে, তারাই দেশকে কিছু দিয়ে যেতে পারে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।

বাগেরহাট স্টেডিয়ামে শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি বক্তব্য রাখছেন -ইত্তেফাক

জঙ্গি দিয়ে নাশকতা নেপথ্যে জামায়াত

পুলিশ এ ব্যাপারে সতর্ক :আইজিপি

০০ আবুল খায়ের

জামায়াত-শিবিরের নেতারা তাদের 'বি-টিম' নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা-কমর্ীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং বৈঠক করেছেন। এই দুই জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কমর্ীদের দিয়ে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য পেয়েছে। জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেফতারের পর জামায়াত-শিবির ঐ দুই জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কমর্ীদের নাশকতামূলক ঘটনায় উস্কানি দিতে এই যোগাযোগ করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জামায়াত-শিবিরের এই তৎপরতা সম্পর্কে সরকারের শীর্ষ মহলকে ইতিমধ্যে অবহিত করেছে। পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন, জামায়াত-শিবির ও জঙ্গি সংগঠনের যেকোন ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে। কোন ধরনের অপতৎপরতার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আইজিপি জানান।

রাজধানীতে জামায়াত-শিবির কোন ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশকে সেইভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২৬ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। এদের মধ্যে ৬০ ভাগই জামায়াত-শিবির, রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সমর্থিত। উৎকোচ বাণিজ্য ও দলীয় বিবেচনায় ঐ সকল পুলিশ সদস্য নিয়োগ পায়। ঐ সকল পুলিশ সদস্য জঙ্গি সংগঠনকে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করছে। এই সকল পুলিশ সদস্য রাজধানীতে ও মাঠ পর্যায়ে রয়েছে। তারা নিরীহ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে এবং মামলা তদন্তের নামে চালাচ্ছে উৎকোচ বাণিজ্য। চাহিদা মত উৎকোচ না পেলে গুপ্ত হত্যার মত কাজ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ঐ সকল পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি নজরদারি এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান। জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কমর্ীদের সংগঠিত করে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানোর এবং দলীয় আশীর্বাদপুষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে তাদের সহযোগিতা করানোর কাজে জামায়াত-শিবির কলকাঠি নাড়ছে। এজন্য জামায়াত-শিবির মোটা অংকের টাকা ব্যয় করছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তথ্য পেয়েছেন। রাজধানীসহ দেশব্যাপী জামায়াতের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতাদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, জামায়াত-শিবির কিংবা জঙ্গিদের কোন ধরনের নাশকতা ও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটাতে দেয়া হবে না। র্যাব সেইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।


আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ পুলিশের লাঠিচার্জ

বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি

০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষিত কুশিয়ারা কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিতে গতকাল শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানাটি খুলে দেয়া, আটক ৫ শ্রমিকের মুক্তি ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তবে পরে পুলিশের বাধার মুখে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে শুক্রবার কতর্ৃপক্ষ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে কারখানায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ ও কারখানা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জে ২০/২৫ জন শ্রমিক আহত হয়। ঐদিনই পুলিশ কারখানার সামনে থেকে শ্রমিক রেজাউল, রাজীব, নজরুল, মোসলেম উদ্দিন ও আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে। কারখানা ভাংচুরের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক শ্রমিককে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। গতকাল সকাল থেকেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

কারখানার সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এক বিবৃতিতে অবিলম্বে আটক শ্রমিকদের মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

'ঈশ্বর হাত শুধু ম্যারাডোনাকে দেননি!'

ইত্তেফাক ডেস্ক

শুক্রবার উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে ইতিহাস গড়তে পারতো ঘানা। কিন্তু ফুটবলের সাথে বেমানান এক কাজ করে ঘানার জয় ঠেকিয়ে রাতারাতি নায়ক এবং খলনায়ক দুটোই হয়ে গেছেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুই সুয়ারেজ! ফুটবল খেলায় হাত দিয়ে বল ঠেকানোর অধিকার কেবল গোলরক্ষকের থাকলেও সুয়ারেজ নিশ্চিত একটি গোল হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। পেনাল্টি পেলেও সেই পেনাল্টি মিস করে বসে ঘানা! ফলে একই সাথে সুয়ারেজ ঘানার জয়ও ঠেকিয়ে দেন। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে উরুগুয়ে চলে গেছে সেমিফাইনালে। হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে সুয়ারেজ লালকার্ড খেয়েছিলেন। এক ম্যাচের জন্য নয়, বহিষ্কার হতে পারেন গোটা বিশ্বকাপ থেকেও। কারণ ফিফা তার বিষয়টি তদন্ত করতে আলাদা কমিটি গঠন করেছে।

কিন্তু অতসব ভাবছেন না সুয়ারেজ। তার সাফ কথা, লালকার্ড খেয়েছেন তাতে তিনি এতটুকু লজ্জা পাননি! কারণ তার ওই একটি কাজ উরুগুয়েকে নিয়ে গেছে সেমিফাইনালে। গতকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'ম্যারাডোনা যখন অন্যায়ভাবে হাত দিয়ে গোল দিয়েছিলেন, তখন তা নিয়ে সমালোচনা হলেও ম্যারাডোনা নিজে সেই হাতকে বলেছিলেন 'ঈশ্বরের হাত'! অন্যরা বলে হাত লাগালে সেটা 'শয়তানের হাত' কেন হবে! ঈশ্বর তার হাত কি শুধু ম্যারাডোনাকে ভাড়া দিয়েছেন! প্রয়োজন পড়লে যে কেউ সেই হাত কাজে লাগাতে পারে! আমি একসময় গোলরক্ষক ছিলাম, মাথার উপর দিয়ে বল আমাদের জালের মধ্যে ঢুকছিল, তাই সহ্য করতে পারিনি! হাত দিয়ে ঠেকিয়েছি! আমি বহিষকৃত হলেও আমার দেশ তো আর বহিষ্কার হচ্ছে না'।

টাকার জন্য পুলিশ বেপরোয়া

নিরাপত্তা হেফাজতে ৪ জনের মৃতু্যর অভিযোগ

০০ সমীর কুমার দে

হঠাৎ করেই টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। সমপ্রতি রাজধানীতে পুলিশের হেফাজতে ৪ জনের মৃতু্য হয়েছে। সবগুলো ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে চাহিদামত টাকা না পেয়ে পুলিশ পিটিয়ে বা গুলি করে হত্যা করেছে। সর্বশেষ দারুস সালাম থানা এলাকায় নিহত মজিবর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ আরো ভয়াবহ। পুলিশ তাকে হাতকড়া লাগিয়ে ও গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেয়। এরপর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা থেকে পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার রাজধানীর ৪১টি থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) নিয়ে বৈঠক করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক। থানার ওসিদের আরো সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে টাকার জন্য কাউকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি ওসিদের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহিদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। কিন্তু তারপরও পত্রিকায় রিপোর্ট দেখে সবগুলো ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন তিনি। এসব কমিটির রিপোর্ট পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুরো পুলিশ বিভাগকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না।

সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে পরিবহন শ্রমিক মজিবর রহমানের (৪২) লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মজিবরের সাত বছরের ছেলে ইকবাল হোসেনের সামনে থেকে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। ছেলের সামনেই পুলিশ সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া লাগায়। গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে নৌকায় তুলে তুরাগ নদে ফেলে দেয় পুলিশ সদস্যরা। নিহতের ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, গত বুধবার দুপুরে দারুস সালাম থানার একজন এস আই তার বাবার কাছে মজিবরকে না ধরার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এক সপ্তাহ আগেও পুলিশকে সাত হাজার টাকা দিয়ে গ্রেফতার এড়িয়েছেন মজিবর। মজিবরকে ধরিয়ে না দিলে তার সব ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ওই এসআই তার বাবাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন জাকির হোসেন।

মজিবরের লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেছে, লাশের গলায় কালচে দাগ, পিঠে ও কোমরে আঘাতের চিহ্ন। মজিবরের হাতে হাতকড়ার চিহ্ন ও গলায় বেল্ট লাগানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। মজিবরের আরেক ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ, এ এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে মুহিবুল, নয়ন, কাজল ও আসলাম। গাবতলীতে যাত্রী ডাকার কাজ করে এমন কয়েকজনকে ধরিয়ে দেয়া নিয়ে এই সোর্সদের

সঙ্গে মজিবরের ঝগড়া হয়। পুলিশকে টাকা না দেয়া এবং সোর্সদের সঙ্গে ঝগড়ার কারণেই মজিবরকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের সোর্স মুহিবুল, নয়ন, কাজলসহ দারুস সালাম থানার পুলিশের বৃহস্পতিবার রাত্রিকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য মিলে মজিবরকে খুন করেছে বলে দাবি করেন মজিবরের পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর নিহত মজিবরের বাবা ইব্রাহিম অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা থেকে পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতেই পুলিশ মুহিবুল ও কাজলকে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হুমায়ন কবিরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিরপুরের ডিবি সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও মোহাম্মদুপরের এসি আ স ম মাহাতাব উদ্দিনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশের গুলিতে মারা যান মিজানুর রহমান (৩৫)। মিজানুরের স্ত্রী তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, চাহিদামত টাকা না পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ মিজানুরকে দুইদিন হাজতে আটকে রাখে। পরে বুধবার রাতে থানা হাজত থেকে নিয়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপরও তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়নি। রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় গোলাগুলিতে আহত হয়ে পরে মারা যান মিজান। এই ঘটনায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সদর দফতর) মঞ্জুর কাদের খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ডিসি গুলশান এ কে এম হাফিজ আখতার ও উত্তরা জোনের এসি এস এ নেওয়াজী। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

এর আগে গত সোমবার রাতে রমনা থানার পুলিশের হেফাজতে বাবুল গাজী (৪০) নামের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালকের মৃতু্য হয়। বাবুল গাজীর স্ত্রী সুভা আক্তারের অভিযোগ, চাহিদামত টাকা না পেয়ে বাবুলকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। যথারীতি রমনা থানার পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মৃতু্যবরণ করেন। এই ঘটনায় রমনা জোনের এডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন রমনার এসি মোনালিসা বেগম।

এর আগে গত ৯ মার্চ রমনা থানা হেফাজতে জাকির হোসেন (৪৫) নামে আরো একজনের মৃতু্য হয়। গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।

এদিকে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ দফতর থেকে সবগুলো ঘটনার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয় অনুসন্ধানের লক্ষ্যে তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ হতে পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কোন পুলিশ সদস্যের বিধি বহির্ভূত কার্যকলাপ, অসদাচরণ বা অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয়/ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন অবস্থায় অতিরঞ্জিত বা অনুমাননির্ভর কোন প্রচারণা না করার জন্য সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সালাম মুর্শেদীর কলাম

বিশ্বকাপের জৌলুস শেষ হয়ে গেল

রাতে আমি অফিসে বসে খেলা দেখছিলাম। আর্জেন্টিনাকে ৩ গোল খেতে দেখে অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ীর পথে রওনা দিতে বাধ্য হয়েছি। ব্রাজিলের পর আর্জেন্টিনা বিদায় নেয়ার কারণে আমাদের দেশ থেকে এই বিশ্বকাপের আনন্দটাই যেন নষ্ট হয়ে গেল। ব্রাজিল তো ১০ জন নিয়ে খেলেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা ১১ জন নিয়ে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত কেন পারল না। গোল করার অনেক সময় পেয়েছিল ম্যারাডোনার দল। আগের রাতে যখন ব্রাজিল হেরেছে সেটা দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত ছিল ম্যারাডোনার। আরো সাবধান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেদিকে খেয়াল না করে বেশি রকম আত্মবিশ্বাস থাকার কারণে এমন পরিণতি হয়েছে। অতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা নেগেটিভ সাইড। জার্মান কমপিস্নট গেম খেলেছে। আর্জেন্টিনা যখন গোল হজম করেছে তখন তারা ভেবেছিল কামব্যাক করতে পারবে। কিন্তু জার্মান সে সুযোগ না দিয়ে কৌশল অবলম্বন করে আর্জেন্টিনাকে পিছু হটিয়ে দিয়েছে। আর্জেন্টিনার গোলকিপার সর্াির্জও রোমেরোর দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। ডিফেন্সের সামনে দিয়ে এধনের কোন বল আসলে হঠাৎ করে গোলকিপারের কিছুই করার থাকে না। তাছাড়া

মেসি, যার উপর এতো বেশি নির্ভরশীলতা সেই মেসিকে অক্টোপাসের মতো আটকে রেখেছিল জার্মান অধিনায়ক ফিলিপ লাম, ফেড্রিখ, মার্টেস্যাকাররা। মেসিকে এমন ভাবে ধরলেন যে মেসি নামেই মাঠে ছিলেন কিন্তু খেলতে দেখা যায়নি। কোথায় ছিলেন হিগুইন, তেভেজ, মাসচেরানো, মেক্সি রডরিগুয়েজ, হেইঞ্জরা। কাউকেই তো দেখা গেল না জার্মানির পোডলস্কি, সোয়াইনস্টইগার, ক্লোজ,মুলারদের বিরুদ্ধে পালস্না দিয়ে লড়াই করতে। আর্জেন্টিনা নামেই মাঠে ছিল, খেলতে দেখা যায়নি। আমার মনে হয় ব্রাজিলের হারাটা আর্জেন্টিনার শিবিরে একটা মনস্তাতি্বক চাপ পড়েছিল। খেলায় প্রথম গোল খাওয়ার পর নার্ভ হারিয়ে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। বল কন্ট্রোল করতে পারেনি।

ঘানার জন্য আফসোস হয়

ব্রাজিল হেরে যাওয়ার কারণে গতকাল সকাল থেকে অনেকের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। আমি ব্রাজিলের সমর্থক। আমার বন্ধু মহলে অনেকেই রয়েছেন যারা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। তারা আমাকে খোঁচা দেয়ার জন্যই ফোন দিয়েছেন। শুধু আমি কেন, যারা ব্রাজিলকে সমর্থন করেন তারা সবাই ব্যথিত। আমার কাছে মনে হচ্ছে ব্রাজিল সবাইকে কাঁদিয়ে গেছে। ব্রাজিলের ব্যর্থতায় আমাদের দেশের সমর্থকদের মধ্যে যেমন হতাশা দেখলাম তাতে খোদ ব্রাজিলে এই মুহূর্তে কি রকম অবস্থা তা ঢাকায় বসেই বোঝা যায়। অনেকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন। হারের খবর শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। নেত্রকোনায় একজন ব্রাজিল অনুরাগীর মারা যাওয়ার খবর শুনেছি। খারাপ লেগেছে। এমনও শুনেছি অভিমানে কেউ কেউ আত্মহত্যা করতেও গিয়েছিলেন। এদেশের মানুষের মনের ভেতরে ফুটবলের স্থানটা যে কত যত্নে রাখা এসব দেখলেই বোঝা যায়। শ্বাসরুদ্ধকর এবং চরম নাটকীয় একটা ম্যাচ দেখা গেছে। আমি নিশ্চিত রাতের ঘুমের কারণে কারো চোখ ভেঙ্গে আসলেও টিভি বন্ধ করেননি। খেলাটা শেষ করেই উঠেছেন।

রাতে ব্রাজিলের হার দেখে অনেকেই আর টিভির পর্দার উপরে চোখ রাখেননি। রাগে-ক্ষোভে পারলে অনেকে টিভিটাই যেন ভেঙ্গে ফেলেন। ব্রাজিল সমর্থকরা রাগ করবেন না পিস্নজ। আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে, সব সমঝদার ফুটবল দর্শক অভিমান করে রাতের ঘানা এবং উরুগুয়ের ম্যাচটি দেখেননি তারা কিন্তু ভালো এবং উত্তেজনায় ঠাসা দারুণ একটা ম্যাচ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ম্যাচটা বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনার ম্যাচ ছিল। ব্রাজিল-হল্যান্ড ম্যাচটি যেমন যন্ত্রণা দিয়েছে, তেমিন উরুগুয়ে-ঘানা ম্যাচটি মুগ্ধতা এনে দিয়েছিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মুনতারির গোলে এগিয়ে ছিল ঘানা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাত্র শুরু হয়েছে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ফোরলান ১-১। এটা বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর ফ্রি-কিক ছিল। হাত দিয়ে জাদু দেখায় জাদুকর। আর ফোরলান জাদু দেখালেন তার ডান পা দিয়ে। বল অনেকটা বাঁক খেয়ে ঘানার পোস্টে ঢুকে যায়। আমার সব সময় আশংকা ছিল ফোরলানকে নিয়ে। কারণ এই ফুটবলারই পারেন অনেক কিছু ওলট-পালট করে দিতে। হয়েছেও তাই।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা যখন শেষ পর্যায়ে তখন ঘড়িতে দেখাচ্ছিল ৩০ মিনিট শেষ হয়ে ২৬ সেকেন্ড চলছে। সেই অন্তিম মুহূর্তে ঘানার নিশ্চিত গোল ঠেকাতে গিয়ে উরুগুয়ের লুই সুয়ারেজ গোল লাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল হতে যাওয়া বলটাকে হাত দিয়ে থামিয়ে দেন। রেফারি তাকে লালকার্ড দিয়ে মাঠ ছাড়তে বলেন। পেনাল্টি দেন ঘানার পক্ষে। ঘানার ফুটবলাররা তো আনন্দে নেচে উঠেন। কারণ তারা অনেকবার গোল করার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। এবার ভাগ্যবিধাতা মুখ ফিরে তাকিয়েছে। তর সইছিল না ঘানার ফুটবলারদের। কারণ সময় নেই। বাঁশি বাজানোর অপেক্ষায় রেফারি। আসোমোয়াহ গায়ানা পেনাল্টি শট নিলেন, গোল করতে পারলেন না। অথচ টাইব্রেকিং শটে আসোমোয়া গায়ানা ঠিকই গোল করেছেন। খেলা শেষ হয়ে গেল। ঘানা নিজের হাতে থাকা জয়টা যেন উপহার দিল উরুগুয়েকে। দুর্ভাগ্য ঘানার। টাইব্রেকারে হেরে গেল বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে থাকা আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। ঘানার জন্য আফসোস নিয়ে আমরা ঘুমাতে গিয়েছি।

চৌধুরী আলমের সন্ধান চায় পরিবার

০০ জামিউল আহসান সিপু

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম ৭ দিন ধরে নিখোঁজ। পরিবারের দাবি, চারদলীয় জোটের হরতালের আগেরদিন ২৫ জুন রাতে ফার্মগেট এলাকা থেকে সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে চৌধুরী আলমের কোন হদিস মিলছে না। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেন, চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ চৌধুরী আলমের খোঁজ করছে। অন্যদিকে, র্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, চৌধুরী আলমকে র্যাব আটক করেনি। তার আটকের ব্যাপারে র্যাবের কাছে কোন তথ্য নেই। তবে যে কেউ এ ব্যাপারে র্যাবের কাছে অভিযোগ করলে র্যাব তদন্ত করবে।

চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছেলে আবু সাঈদ আলম চৌধুরী শেরেবাংলানগর থানায় গত ১ জুলাই একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার পিতা চৌধুরী আলম মাইক্রোবাসে করে ইন্দিরা রোড দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। ইন্দিরা রোডের গার্মেন্টস গলির কাছে আরেকটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে ঐ গাড়ির গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে ৬/৭ জন এসে নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দেয়। তারা চৌধুরী আলমকে গাড়ি থেকে টেনে-হেঁচড়ে নিচে নামিয়ে কিল-ঘুষি মারে। পরে অজ্ঞাত লোকেরা চৌধুরী আলমকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করা হচ্ছে। চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে দেশের সকল থানায় ওয়ারলেসে ম্যাসেজ ও ছবি পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, চৌধুরী আলমকে পুলিশ আটক করেনি। তাকে কারা অপহরণ করেছে এ ব্যাপারে খোঁজ করা হচ্ছে।

এদিকে, চৌধুরী আলম একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তার ব্যাপারে পুলিশের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চৌধুরী আলমের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ভাংচুর, হুমকি, লুটতরাজ ও দুর্নীতির অভিযোগে ৫টি মামলা হয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। বিএনপির নির্বাহী সদস্য। বাড়ি খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ায়।

অন্যদিকে, চৌধুরী আলম নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, চৌধুরী আলম একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। একজন জনপ্রতিনিধি নিখোঁজ থাকা উদ্বেগের বিষয়। তাকে উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের আইজি ও র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি মেয়র হিসাবে আজকালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানান।

এদিকে, গোয়েন্দা সংশিস্নষ্ট একটি সূত্র জানায়, চৌধুরী আলম গুলিস্থান, মতিঝিল ও পল্টন এলাকার ফুটপাতের হকারদের নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজধানীতে কোন হরতাল হলে পিকেটিংয়ে এই এলাকার হকাররা একটি ভূমিকা পালন করে। হকারদের নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আলম হওয়ায় কোন একটি মহলের রোষানলের শিকার হতে পারেন তিনি।




সুপ্রিম কোর্ট খুলছে আজ

০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

২৩ দিনের অবকাশ শেষে আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে শুরু হবে বিচার কাজ। গত ১১ জুন এই অবকাশ শুরু হয়। খোলার পর সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়ার মামলা, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আদেশ স্থগিতের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল, সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর বৈধতা সংক্রান্ত রিট মামলার রুলের শুনানি। এছাড়া বেশ কিছু জনস্বার্থ সংশিস্নষ্ট মামলার রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ হেফাজতে বন্দির মৃতু্য, নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কারাগারে আটক রাখা ইত্যাদি। এছাড়া আটক বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কিছু শীর্ষ নেতার অন্তর্বতর্ীকালীন জামিন চেয়ে এবং রিমাণ্ড বাতিলের আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। উলেস্নখ্য, গত ১১ জুন থেকে অবকাশ শুরু হলেও জনগুরুত্ব সম্পন্ন মামলা শুনানির জন্য বেশ কিছু অবকাশকালীন বেঞ্চ দায়িত্ব পালন করেছে। প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যে হাইকোর্টের ২৩টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন। পুনর্গঠন সংক্রান্ত আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে।

জামায়াতের ৫ দিনের কর্মসূচি

নফল রোজা আদায়, মানববন্ধন ও সমাবেশ

০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

জামায়াতে ইসলামী তাদের শীর্ষ তিন নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে পাঁচদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ও আগামীকাল সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, আগামী ৭ জুলাই সারাদেশে মানববন্ধন এবং আগামী ৯ ও ১০ জুলাই নফল রোজা আদায়। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজহারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের কার্যকলাপে প্রমাণিত হচ্ছে যে, সরকারের মদদপুষ্ট একটি বিশেষ মহল থেকে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে ঘায়েল করতেই তাদের বিরুদ্ধে ধমর্ীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মিথ্যা অজুহাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগে দায়ের করা ৫টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলা উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিলে প্রদত্ত মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচার করে জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মাহফিলে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, যে মাহফিলে তারা উপস্থিত ছিলেন না সে মাহফিলের বক্তব্যকে কেন্দ করে দায়ের করা মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে কোন যুক্তিতে?

তিনি বলেন, তিন নেতাকে গ্রেফতারের পর ২৯ জুন সন্ধ্যায় সারাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াতের নেতা-কমর্ীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। জামায়াতের নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালনে সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে বাধা দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল কাদের মোলস্ন্লা, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা: শফিকুর রহমান প্রমুখ।

বাগেরহাটে শেখ হেলালকে গণসংবর্ধনা

০০ নীহার রঞ্জন সাহা, বাগেরহাট সংবাদদাতা

সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনের কাছে বাগেরহাটের উন্নয়নে ২৭ দফা দাবি পেশ করেছে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার বিকালে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ হেলালকে দেয়া এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।

বাগেরহাট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনায় দাবি সম্বলিত মানপত্র পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হেলালকে আড়াই ভরি ওজনের পৌরসভার সোনার চাবি উপহার দেন বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান।

দাবির মধ্যে রয়েছে- ড্রেজিংসহ মংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বাগেরহাটে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর ও পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণ, বাগেরহাট পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা থেকে বিশেষ শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীতকরণ, বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরী সমপ্রসারণ, বাগেরহাট সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীতকরণ, ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এবং বাগেরহাট ভকেশনাল ইন্সটিটিউটকে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে রূপান্তর, লবণাক্ততা প্রতিরোধে ঘসিয়াখালী খাল বন্ধ ও বলেশ্বরসহ সব নদী খনন, পতিত কেন্দুয়া বিলকে চাষাবাদযোগ্য করে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ প্রভৃতি।

সংবর্ধনার জবাবে শেখ হেলাল তার বক্তৃতায় তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য বাগেরহাটবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাগেরহাটের উন্নয়নে তুলে ধরা দাবিসমূহ বাস্তবায়নে কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে তিনি হযরত খান জাহানের (র:) মাজার জিয়ারত করেন।

বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণ- সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ. আওয়াল এমপি, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, এমপি মীর শওকাত আলী বাদশা প্রমুখ।

নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে

মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বিএনপি ইসু্যবিহীন হরতালের নামে মানুষ হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। সন্ত্রাস ও বোমাবাজির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে দেশকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না।

ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনমনে ভীতি-আতংক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদে এবং আইনানুগ বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসাবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। সমাবেশে সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, হাজী মো: সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পুলিশ দ্বারা নির্যাতন করেছে। এই পুলিশকে তারাই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরা কোন পুলিশকে চাকরিচু্যত করিনি। 'আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিএনপির মুক্তি চাওয়া' প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, মতিউর রহমান একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। তাকে মহানবী (সা:) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অথচ বিএনপির চেয়ারপার্সন তার মুক্তি চেয়েছেন। হরতালের নামে দেশের শ্রমজীবী মানুষকে হত্যা করেছে বিএনপি। তারা গণতন্ত্রের লেবাস দিয়ে জেমবি জন্ম দিয়েছে, লালন করেছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি ইসু্যবিহীন হরতাল করে দেশে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। মানুষ হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। কোন বিষয়ে আলোচনার জন্য মানুষকে বিপাকে ফেলে রাজপথে নয়, সংসদে গিয়ে কথা বলুন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপির ডাকা হরতালের নামে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কার ইঙ্গিতে দেশে হরতাল হয়েছে, সেই নেতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, আর বসে থাকার সময় নেই। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে চাই।

কামরুল ইসলাম বলেন, জনগণ যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মতিউর রহমান নিজামীসহ সমপ্রতি আটককৃতদের কাঠগড়ায় দেখতে চায়। এসব যুদ্ধাপরাধীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে কোন কাজ হবে না।

শামসুল হক টুকু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি একাত্মতা ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চাইছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন কোন কাজ করবেন না, যাতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।

 


 
  The Daily Ittefaq - Established: 24th December, 1953.
Privacy Policy | Feedback | Contact Us